ঢাকা , সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬ , ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুড়িগ্রামে চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যু, স্বজনদের মারধরের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৩-০৫ ১৩:০৭:৪৯
কুড়িগ্রামে চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যু, স্বজনদের মারধরের অভিযোগ কুড়িগ্রামে চিকিৎসকের অবহেলায় রোগীর মৃত্যু, স্বজনদের মারধরের অভিযোগ
 
আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:-
 
 
কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে চিকিৎসকের অবহেলায় মোছাঃ আফরোজা বেগম (৪২) নামের এক প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।
 
সোমবার (০২ মার্চ) বিকেলে কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার সদর হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রতিবাদে হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভ করেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা।
 
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে চিকিৎসক ও নার্সরা কর্মবিরতি পালন শুরু করেন। এতে হাসপাতালজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
 
স্বজনদের অভিযোগ, বিকেলে কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার শহরতলীর হিঙ্গনরায় ডাকবাংলা এলাকার মোঃ আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী মোছাঃ আফরোজা বেগম প্রসবজনিত জটিলতা নিয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি হতে আসেন। এসময় ভর্তি সংক্রান্ত কাগজপত্রে জটিলতা দেখিয়ে অযথা বিলম্ব করা হয়। দীর্ঘসময় অপেক্ষার কারণে রোগীর শারীরিক অবস্থা আরও অবনতি ঘটে।
 
নিহতের স্বজন মোছাঃ পেয়ারা বেগম, মোছাঃ দরদী বেগম ও মোছাঃ লিলি বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘আমরা রোগী নিয়ে আসার পর দেখি কয়েকজন নার্স মোবাইলফোনে ব্যস্ত। রোগীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় দ্রুত চিকিৎসার অনুরোধ জানালে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে কাগজপত্রের জটিলতার কথা বলে সময়ক্ষেপণ করেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এরই মধ্যে রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে।’
 
তাদের দাবি, এক পর্যায়ে আফরোজা বেগম মারা গেলে পরিস্থিতি সামাল দিতে তার শরীরে স্যালাইন দেওয়া শুরু হয়। প্রতিবাদ জানাতে গেলে ইমারজেন্সি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক শুভর নেতৃত্বে কয়েকজন রোগীর স্বজনদের মারধর করেন।
 
তবে হাসপাতালের ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার ডাঃ শুভ তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘ভর্তি ছাড়া চিকিৎসা দেওয়ার নিয়ম নেই। রোগীর স্বজনরা নিয়ম না মেনে চিকিৎসা দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। আমরা কাউকে মারধর করিনি। সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।’
 
ঘটনার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক নুর নেওয়াজ আহমেদের কার্যালয় সাময়িকভাবে বন্ধ পাওয়া যায়। মোবাইলফোনে তিনি বলেন, ‘এ ঘটনায় উভয় পক্ষেরই কিছু অপেশাদার আচরণ ছিল। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছি।’
 
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জন ডাঃ স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। আনঅফিশিয়ালি তদন্ত করা হচ্ছে। খোঁজখবর নিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ